Showing posts with label খবর. Show all posts
Showing posts with label খবর. Show all posts

February 11, 2010

কি ঘটবে ২০১২ সালে? মায়ান ক্যালেন্ডার কি পারে সত্যি ভবিষ্যতবাণী করতে?

আপনাদের মধ্যে অনেকেই হয়তো হলিউডের ২০১২ ছবিটা দেখেছেন। সুতরাং কেন আমি ২০১২ সাল নিয়েই লিখতে যাচ্ছি তা নিশ্চয়ই আমি বুঝে গেছেন।আর আগে থেকে আপনি কিছুই জানেন না? তো কি হয়েছে?এক্ষুনি এই লিখাটা পড়ে ফেলুন।
 'ছবির ঘটনার মত ২০১২ সালের ২১ ডিসেম্বর সত্যি সত্যি আমাদের পৃথিবীতে ঘটতে যাচ্ছে ধবংসলীলা'- এ কথাই বলছেন মায়ান পঞ্জিকা বিশেজ্ঞরা। সবচেয়ে বড় ভয়ংকর ব্যাপার হল, মায়ান পঞ্জিকাতে আজ পর্যন্ত যত ভবিষ্যদ্বানী করা হয়েছে তার প্রত্যেকটিই কালের আবর্তনে সত্য ঘটনায় পরিণত হয়েছে। এখন কথা হচ্ছে কি এই মায়ান ক্যালেন্ডার?এর মাহাত্ব্যটাই বা কি? এর সম্পর্কেই আজ আপনাদের কিছু ধারণা দেবার চেষ্টা করব।

মায়ান পঞ্জিকার পরিচয়
মায়ান সভ্যতার নাম কম-বেশি আমরা প্রত্যেকেই শুনেছি। পুরাতন সেই মায়ান সভ্যতা মায়ানদের এক অনুপম সৃষ্টি। সময় এবং সৃষ্টির এক সুন্দর বিন্যাস সম্পর্কে তারা অনেক আগেই অবগত হয়েছিলেন। মায়ানরা জানত যে চাঁদ, শুক্র এবং অন্যান্য গ্রহ-তারা মহাবিশ্বে চক্রাকারে ঘুরছে। তারা নিখুঁভাবে সময় গণনা করতে পারত। তাদের একটি পঞ্জিকা ছিল যাতে সৌর বছরের প্রতিটি মিনিটের নিখুঁত বর্ণনা ছিল। মায়ান ক্যালেন্ডার সম্পর্কে উইকিপিডিয়ার পেজটা দেখতে চাইলে এখানে ঢুঁ মারুন।

মায়ানরা মনে করত প্রতিটি জিনিসের উপর সময়ের প্রভাব আছে এবং প্রতিটি জিনিস সময় অনূযায়ী একেকটি অবস্থানে অবস্থান করছে। পুরোহিতরা নভোঃমন্ডল এবং পঞ্জিকা ব্যাখ্যা করতে পারত। এ কারণে সাধারণ মানুষের সমস্ত কর্মকান্ড নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা তাঁর হাতে থাকত। কখন বীজ রোপণ করতে হবে, কখন ফসল ঘরে তুলতে হবে, কবে থেকে বর্ষা শুরু হবে, কবে থেকে গরম শুরু হবে- এ সব সম্পর্কে তারা জানত বলে তারা ক্ষমতা এবং নিয়ন্ত্রণের সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছে গিয়েছিল। তাদের সময়, ঋতু, চক্র উপলব্ধি করার খুব উচ্চ ক্ষমতা ছিল।

মায়ানদের কাছে মহাকাশের উপর ১৭ টি ভিন্ন ভিন্ন পঞ্জিকা ছিল। এদের মধ্যে কোন কোন পঞ্জিকা এখান থেকে ১০ মিলিয়ন বছর আগের। এবং সেগুলো এত দুর্বোধ্য যে তা বুঝতে চাইলে হিসেব-নিকেশ করার জন্য সাথে অবশ্যই একজন করে অ্যাস্ট্রোনমার, অ্যাস্ট্রোলজার, জিওলজিস্ট, এবং ম্যাথমেটিশিয়ান থাকতে হবে। শুক্র গ্রহের পরিক্রমণ পথ এবং এর অরবিট সংক্রান্ত ভবিষ্যদ্বানী করা একটি সারণীও তারা তৈরি করেছিল।

যে পঞ্জিকাগুলো পৃথিবী এবং পৃথিবীতে বসবাসরত প্রাণীদের জন্য সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ সেগুলো হল হা’ব, তুন-উক এবং তযোকি’ন। এদের মধ্যে তযোকিইন হল সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ এবং এর প্রভাব আমাদের উপর অনেক বেশি।

হা’ব
এটি পৃথিবীর পরিক্রমণ পথের উপর রচিত। এতে সর্বমোট ৩৬৫ দিনের হিসাব আছে। হাব এ ২০ দিন করে মোট ১৮ মাসের উল্লেখ আছে (এত গেল মোট ৩৬০ দিন)। আর বাকি ৫ দিন নিয়ে আরেকটি মাস হিসাব করা হয়েছে যার নাম উয়ৈব। প্রতিটি মাসের নিজস্ব একটি করে নাম আছে। প্রতিটি দিনের আবার ধর্মীয় তাৎপর্য আছে।

তুন-উক

এটা হচ্ছে চাঁদের পঞ্জিকা। এতে চক্রটি হিসাব করা হয়েছে ২৮ দিন দিয়ে যাতে মেয়েদের রজঃচক্রের হিসেবের প্রতিফলন দেখা যায়। এই চক্রানুসারে প্রতি ৭ দিন পরপর আরও চারটি করে ছোট ছোট চক্র সম্পন্ন হয়। এই ছোট চক্রগুলো হল চাঁদের চারটি দশা।

তযোকি’ন

এটি মায়নাদের একটি পবিত্র পঞ্জিকা। এতে কৃত্তিকার পরিক্রমণ পথানুসারে চক্র পূরণ করা হয়েছে। এ চক্রানুসারে সম্পূর্ণ অরবিট ঘুরে আসতে এর সময় লাগে ২৬,০০০ বছর। আর এই পঞ্জিকাতে ২৬০ দিনে একেকটি বছর পূর্ণ করা হয়েছে। এতে মায়ানদের দুটি পবিত্র নম্বরের বিন্যাস ঘটেছে। একটি ১৩ এবং অন্যটি ২০। এতে চারটি ছোট ছোট চক্র আছে যাদের বলা হয় সিজন বা ঋতু। প্রতিটি ঋতু ৬৫ দিনের। এদের নামগুরো হল চিকচ্যান, ওক, মেন এবং আহাউ। এই পবিত্র পঞ্জিকাটি এখনও মায়ান আদিবাসীদের মধ্যে প্রচলিত আছে।

তযোকি’ন পঞ্জিকাটি হা’ব পঞ্জিকার সাতে সম্পর্কযুক্ত। হা’ব পঞ্জিকাটিতে ৫ দিনের সমন্বয়ে যে মাসটি রয়েছে সেটিকে খুব ভয়ঙ্কর একটি সময় বলে গণনা করা হয়। তযোকি’ন এবং হা’ব পঞ্জিকা দিয়ে একটি পূর্ণ চক্র সম্পন্ন করতে সময় লাগে ৫২ বছর। অধিকাংশ আর্কিওলজিস্টরা মনে করেন মায়ানরা খ্রিস্টের জন্মের প্রায় ৩,১১৪ বছর আগে থেকে সময় গণনা করা শুরু করেছে। আমাদের বর্তমান পঞ্জিকা মতে খ্রিস্টের জন্মের বছরের জানুয়ারি মাস থেকে প্রথম বছর গণনা করা হয়। আর মায়ান ক্যালেন্ডার অনুযায়ী এই বছরটাকে হিসাব করা হয় শূন্য বছর। এই সময়টাকে লেখা হয় এভাবেঃ ০-০-০-০-০। একটা নতুন চক্র শুরু হওয়ার আগে ১৩ চক্রের ৩৯৪ বছর শেষ হয়ে যাবে। আর নতুন চক্রটি শুরু হবে ২০১২ সালে।

মায়ান পঞ্জিকার সাধারণ বিষয়সমূহ
মায়ানরা তিনটি ভিন্ন সিস্টেমের পঞ্জিকা ব্যবহার করত। এই তিনটি সিস্টেম তযোকিন ( পবিত্র পঞ্জিকা), হা’ব ( বিভিন্ন কাজকর্মের নিয়ম সংক্রান্ত পঞ্জিকা ), গণনার পন্থা।
তযোকি’ন ২৬০ দিনের চক্র এবং হা’ব ৩৬০ দিনের চক্র। তযোকি’ন এবং হা’ব একত্রে ১৮.৯৮০ দিনের একটি চক্র পূরণ করে। এই চক্রটি ‘রাউন্ড ক্যালেন্ডার’ নামে পরিচিত। ৫২ সৌর বর্ষের তুলনায় ১৮,৯৮০ দিন খুবই কম।
‘রাউন্ড ক্যালেন্ডার’ দেখতে অনেকটা চাকার মত। এর ভিতরে দুটি বড় ছোট বৃত্ত থাকে। ছোট বৃত্তটি ২৬০ দিন চক্রের তযোকি’ন বা পবিত্র রাউন্ড এবং বড়টি ৩৬৫ দিনের চক্রের হা’ব রাউন্ড। এভাবে গণনা করা চক্রে ৫২ বছরের মধ্যে একটি দিনও রিপিট হয় না। এ কারণে কয়েকশ বছরের মধ্যে মায়ারা তযোকি’ন বা হা’ব ডেট অনুযায়ী কোন একটি বিশেষ দিনকে ব্যবহার করতে পারত না। মায়ানরা এ সমস্যার সমাধান করেছিল ভিইেসমাল সিস্টেম অনুযায়ী। ভিজেসিমাল সিস্টেম হল এক ধরণের গণনা পদ্ধতি যাতে ২০ ভিত্তি করে গণনা করা হয়। মঅয়ারা কোন বস্তু গণনা করার ক্ষেত্রে ও এই পদ্ধতি ব্যবহার করত। তবে এ পদ্ধতির সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হত সময় গণনার ক্ষেত্রে।
আমরা যেমন একেকটা বিশেষ সময়কে একেক নামে সূচীত করি মায়ানরাও তাই করত। যেমন তারা এক দিনকে বলত কিন, ২০ কিন তৈরি করত এক উইনাল, ১৮ উইনালে এক তুন, ২০ তুনে এক কাতুন, ২০ কাতুনে এক বাকতুন। অর্থাৎ-
১ কিন = ১ দিন
১ উইনাল = ২০ কিন = ২০ দিন
১ তুন = ১৮ উইনাল = ৩৬০ দিন
১ কাতুন = ২০ তুন = ৭,২০০ দিন
১ বাকতুন = ২০ কাতুন = ১৪৪,০০০ দিন

তাদের তারিখ লেখার পদ্ধতিটা ছিল নিম্নরূপ-
বাকতুন . কাতুন . তুন . উইনাল . কিন
উদাহরণস্বরূপঃ
৯.১৫.৯.০.১ বলতে ৯ বাকতুন, ১৫ কাতুন, ৯ তুন, কোন উইনাল নেই, ১ কিন বোঝায়।
অর্থাৎ ৯ X ১৪৪,০০০ + ১৫ X ৭,২০০ + ৯ X ৩৬০ + ০ X ২০ + ১ X ১ = ১,৪০৭,২০১ দিন।
আর মায়ানদের ০.০.০.০.০ বলতে খ্রিস্টের জন্মের পূর্বের ৩১১৩ সালকে বোঝায়।
আর ১৩.০.০.০.০ বলতে ২০১২ সালকে বোঝায়।

২০১২ সাল নিয়ে যত কথা
সবচেয়ে মজার ব্যাপার হল ২০১২ সালের ২১ ডিসেম্বরের পর থেকে মায়া পঞ্জিকাতে আর কোন দিনের উল্লেখ নেই। তাই এই দিনটিকে মনে করা হচ্ছে পৃথিবীর সর্বশেষ দিন। আর একটি ব্যাপার হল আজ পর্যন্ত মায়া পঞ্জিকাতে যাই ভবিষ্যদ্বানী করা হয়েছে, সেই প্রতিটি কথা বাস্তবে প্রতিফলিত হয়েছে। তাই বিজ্ঞানীরা ২০১২ সালের ২১ ডিসেম্বরে পর থেকে আসলে কি ঘটতে পারে তাই নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন।

হলিউডে ‘২০১২’ নামে একটি ছবি মুক্তি পেয়েছে যার মূল বিষয়বস্তু হল মায়াতে উল্লেখ করা ভবিষ্যদ্বানী। এই ছবিটি মুক্তি পাওয়ার আগে গুয়াতেমারা শহরে মায়ান পঞ্জিকা রাখে এমন একজনের ইন্টারভিউ নেয়া হয়েছিলো। তাঁর মতে ঐ দিনের পর থেকে পৃথিবী দুর্ভিক্ষের কবলে পড়বে।
আরেকজন বলেছেন, এটা দিয়ে মূলত বোঝায় যে, আমরা ব্যালান্সের বাইরে চলে গেছি। আমরা যা ডিজার্ভ করি, তার অনেক উর্ধ্বে চলে গেছি। তাই ওখানে আর কোন লিখিত হিসাব রাখা হয়নি বা রাখা সম্ভব হয়নি।
কেউ কেউ বলছেন এই দিন খুব বড় কোন দুর্যোগ ঘটতে পারে। আবার কেউ বলছেন এই দিনটি হবে মানব সভ্যতার শেষ দিন। প্রকৃত পক্ষে কি ঘটতে চলেছে ২০১২ সালে?
২০১২ উইকিপিডিয়া

মায়ান পঞ্জিকার রহস্য
অধিকাংশ প্রাচীন সভ্যতায় একটি কথার উল্লেখ পাওয়া যায়। তাদের ধারণা অলৌকিক ক্ষমতা সম্পন্ন কেউ একজন দূর থেকে আমাদের নিয়ন্ত্রণ করছেন। জীবনের প্রতিটি খুঁটিনাটি ঘটনা সেই একজনের বিশাল বড় এক ঐশ্বরিক প্ল্যানের অংশবিশেষ। ভবিষ্যৎ হচ্ছে তাদের জন্য যারা এই ব্যাপারটিকে বিশ্বাস করে এবং এই প্ল্যানের একটি অংশ হিসেবে সামনে এগিয়ে যাওয়ার মত সাহস রাখে। এই বিশাল বড় প্ল্যান বুঝতে পারার একমাত্র উপায় ‘মায়ান পঞ্জিকা’।

মায়ান পঞ্জিকার সত্যতা সম্পর্কে জানতে পারাটা মোটেই দুঃসাধ্য কোন ব্যাপার নয়। একটু চেষ্টা করলে এটা বোঝা যাবে ঠিকই কিন্তু সমস্যা বাধবে অন্য জায়গায় গিয়ে। সমস্যাটা হচ্ছে যে আমরা প্রত্যেকে বস্তুগত চিন্তা-চেতনায় অভ্যস্ত। সেজন্য আমরা আমাদের আশেপাশের সবকিছুর বস্তগত ব্যাখ্যা খুঁজি। কাজেই ঐশ্বরিক প্ল্যানের ক্ষেত্রেও আমরা এর বস্তুগত ব্যাখ্যা খোজার চেষ্টা করব এই শর্তে যে - যদি কোন প্রমাণ পাই তবে এটা বিশ্বাস করব, অন্যথায় নয়। একথা নিশ্চয়ই বলার অপেক্ষা রাখে না যে অনেকেই বিশেষ করে পশ্চিমাদের বিশ্বাস করতে অনেক কষ্ট হবে যে কোন প্ল্যানের অংশ হিসেবে তারা কারও দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে।

২০১২ সালে ঘটতে চলা কাহিনীর ব্যাখ্যা
বর্তমানে মানুষের চিন্তা-চেতনা এবং ধ্যান ধারণায় অনেক পরিবর্তন এসেছে।সময় এবং বিজ্ঞান সম্পর্কিত জ্ঞানের বিষয়ে মধ্য আমেরিকার মায়ান সভ্যতাই সবচেয়ে বেশি এগিয়ে ছিল এবং আছে। সমগ্র পৃথিবীর মধ্যে তাদের পঞ্জিকাই সবচেয়ে বেশি নিখুঁত। আজ পর্যন্ত কেউ এর কোন খুঁত খুঁজে পাননি। মায়ানদের সর্বমোট ২২ টি পঞ্জিকা রয়েছে। এগুলোর মধ্যে সময়ের সাথে সাথে সমগ্র পৃথিবী এবং সোলার সিস্টেমের যে পরিবর্তন আসবে বা এসেছে তার উল্লেখ আছে। এগুলোর মধ্যে কিছু পঞ্জিকা এখনও পর্যন্ত প্রকাশিত হয়ে আসছে।
মায়ানদের হিসেব মোতাবেক পঞ্চম বিশ্বের সমাপ্তি হয়েছে ১৯৮৭ সালে। ষষ্ঠ বিশ্ব শুরু হবে ২০১২ সাল থেকে। অর্থাৎ বর্তমানে আমরা বিশ্বের মাঝামাঝি জায়গায় অবস্থান করছি। এই সময়টাকে বলা হয় এপোক্যালিপস অর্থাৎ রহস্যোদঘটন বা রহস্য উন্মোচন। এর অর্থ দাঁড়ায় প্রকৃত সত্য প্রকাশিত হতে যাচ্ছে। আমাদের সঞ্চয় নিয়ে স্বতন্ত্রভাবে এবং একইসাথে যৌথভাবে কাজ করার এটা একটি উপযোগী সময়ও বটে।


মায়ানদের ষষ্ঠ সভ্যতা যে আসলে কবে থেকে শুরু হতে যাচ্ছে তার কোন নির্ধারিত তারিখ নেই। এর মানে হচেছ ষষ্ঠ সভ্যতার শুরু হওয়া বা না হওয়াটা সম্পূর্ণ নির্ভর করছে আমাদের উপর। আমরা যেমনটি আশা করি, তেমন একটি পৃথিবী এবং সভ্যতা যখন থেকে আমরা গড়া শুরু করবো. তখন থেকে এই বিশ্ব শুরু হয়ে যাবে।মায়ানরা এটাও বলে যে এটা শুরু হবে ২০১২ সাল নাগাদ।আমরা প্রযুক্তির অনেক উর্ধ্বে উঠে যাবো (এখন আমরা যেমনটা দেখতে পাচ্ছি)।আমরা সময় এবং টাকার উর্ধ্বে চলে যাবো।
চতুর্থ ডাইমেনশন (বর্তমান ৮ টি ডাইমেনশান নিয়ে কাজ চলছে) অতিক্রম করে আমরা পঞ্চম ডাইমেনশনে প্রবেশ করবো। গ্যলাক্সির সময় বিন্যাসের এবং আমাদের পৃথিবী ও সমগ্র সোলার সিস্টেমের সময় সীমা সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়ে যাবে।
আমাদের ছায়াপথের কেন্দ্রীয় অঞ্চল থেকে আমাদের ডি এন এ এর আপগ্রেড হবে (অর্থাৎ ডি এন এ এর নতুন প্রোগ্রাম করা হবে।
“আমাদের গ্রহের প্রত্যেকে প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হচ্ছে। কেউ কেউ হয়তো এ ব্যাপারে একটু বেশিই সচেতন। কিন্তু সজ্ঞানে হোক আর অজ্ঞানে হোক প্রত্যেকেরই পরিবর্তন হচ্ছে।”- এক্সট্রাটেরেস্টিয়াল আর্থ মিশন।
২০১২ সালে আমাদের সৌরজগত এবং ছায়াপথ একই সমতলে বিন্যস্ত হবে। এই চক্রটি পূরণ হতে পুরোপুরি ২৬,০০০ বছর সময় লেগেছে। ভার্জিল আর্মস্ট্রং এর মতে আমাদের গ্যালাক্সির সাথে সাথে আরো দুটো গ্যালাক্সি ঐ সমতলে বিন্যস্ত হবে। অর্থাৎ খুব শীঘ্রই মহাজাগতিক কোন ঘটনা ঘটতে যাচ্ছে।

সময় খুব দ্রুত চলে যাচ্ছে। হাজার হাজার বছর ধরে প্রতি সেকেন্ডে পৃথিবীর অনুরণনে ছিল ৭.৮৩ টি আবর্তন। কিছুদিন আগে পর্যন্ত ও এটা ছিল সবচেয়ে বেশি নির্ভরযোগ্য তথ্য। কিন্তু ১৯৮০ সালের পর থেকে এই অনুরণনের মাত্রা ধীরে ধীরে বেড়েই চলেছে। বর্তমানে এই অনুরণনের মাত্রা প্রতি সেকেন্ডে ১২ টি আবর্তন। অর্থাৎ এখন ১ দিন সমান প্রায় ১৬ ঘন্টা হবে যেখানে আগে এটা ছিল ২৪ ঘন্টা। আরেকটি ব্যাখ্যা এমন হতে পারে যে, গত ১৬ বিলিয়ন বছরের তুলনায় আমাদের প্রযুক্তি এবং সচেতনতা এতটাই বেড়ে গেছে যে আমাদের প্রতি দিনের হিসেব থেকে কয়েক ঘন্টা কমে গেছে। এ কারণে মনে হচ্ছে যে সময় খুব দ্রুত বয়ে যাচ্ছে। অন্যভাবে বলা যায় যে সময় কমে যাচ্ছে না বরং প্রতিনিয়ত সৃষ্টির হার বেড়ে যাচ্ছে।

এপোক্যালিপসের এ সময়টাতে অনেক মানুষের জীবনে ব্যক্তিগত বেশ কিছু পরিবর্তন আসবে। এ পরিবর্তনের মাঝে বিচিত্রতা থাকবে। উদাহরণস্বরূপ-কোন বিশেষ সম্পর্কের সমাপ্তি, আবাসস্থলের পরিবর্তন, চাকরি বা কাজে পরিবর্তন, আচার-আচরণ এবং চিন্তা-চেতনায় পরিবর্তন ইত্যাদি।

প্রায় প্রতিটি মুহূর্তে আমরা ছোট-বড় অনেক ধরণের সিদ্ধান্ত নিচ্ছি। এসব সিদ্ধান্তের কিছু ভালবাসার ভিত্তিতে, আবার কিছু ভয়ের ভিত্তিতে। কিন্তু এই সময়টাতে আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে ভালবাসার ভিত্তিতে (ইনটুইশন ব্যবহার করে) বুদ্ধি বিবেচনার ভিত্তিতে নয়, নিজের আকাঙ্খাকে দমিয়ে রেখে ধৈর্য্য ধরতে হবে।

চিন্তা-চেতনার ধারা আমাদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। কারণ অনেকক্ষেত্রে এটা আমাদের জীবন নিয়ন্ত্রণ করে। অন্যের সম্পর্কে খারাপ চিন্তা (নেগেটিভ থটস্) করলে আমরা আমাদের নিজেদের দিকে খারাপ ব্যাপার গুলোকে আকর্ষণ করি। একইভাবে ভাল চিন্তা (পজিটিভ থটস্) আমাদরে দিকে ভাল চিন্তা এবং ভাল ব্যাপারগুলোকে আকর্ষণ করে। কাজেই আমাদের প্রত্যেকেরই উচত নিজের চিন্তা-চেতনার ব্যাপারে সাবধান হওয়া। এতে করে বিভিন্ন রকম অপ্রত্যাশিত ঘটনার হাত থেকে আরা রেহাই পাব।

একটা ব্যাপার প্রত্যেকের মনে রাখা উচিত যে অধিকাংশ মিডিয়া কোম্পানিগুলো কয়েকজন নির্দিষ্ট ব্যক্তি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। আমাদের উচিত অন্তর্জ্ঞান দিয়ে তাদের উদ্দেশ্যগুলো উপলব্ধি করা। এই তথ্যগুলো কেন আমাকে জানানো হচ্ছে? যারা এগুলো আমাদের জানাচ্ছে তাদের জানানোর পিছনের মূল উদ্দেশ্য কি? এটা কি আসলে প্রবলেম রিয়েকশন সল্যুশন কেস? এ সমস্যা কি তারা এজন্য তৈরি করে যাতে আমরা রিয়াক্ট করি এবং হতবুদ্ধি হয়ে যাই? এবং এরপরে তারা আমাদের সল্যুশন অফার করবে এবং আমরা তা গ্রহণ করব। তাহলে কি এটাই তাদের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল?

আর এটাও স্মরণ রাখা উচিত যে অ্যাক্সিডেন্টের ফলে কখনো কোন ক্ষতি হয় না। কারণ প্রত্যেকটি ব্যাপার নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে কোন একজন দ্বারা। সত্যই কেবল মানুষকে মুক্ত করতে পারে ।

তথ্য সংগ্রহ এবং মূল ধারণা- নাদিয়া আক্তার
প্রথম প্রকাশ- টেকনোলজি টুডে’ডিসেম্বর ২০০৯

February 9, 2010

আইপ্যাড রিভিউঃ ডিজাইন,ফিচার এবং টেকনিক্যাল স্পেসিফিকেশন

দীর্ঘ এক বছরের জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে গত জানুয়ারির ২৭ তারিখে সানফ্রন্সিসকোতে ‘অবিশ্বাস্য মূল্যে জাদুকরী ও বৈপ্লবিক ডিভাইস’ থিম কে সামনে রেখে এপলের আইপ্যাড-এর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। খুব সহজ কথায় বলতে গেলে এটি একটি বড় মাপের আইপড, ল্যাপটপ আর স্মার্টফোনের মধ্যবর্তী দূরত্ব ঘোঁচানোটাই আইপ্যাডের মূল উদ্দেশ্য।আইপ্যাডে ওয়েব ব্রাউজিং, ইমেইল পাঠানো, পিকচার শো, ভিডিও দেখা, গান শোনা, গেম খেলা, ইবুক পড়া ছাড়াও আরো অনেক কিছু করা যাবে। এর রয়েছে উচ্চ রেজ্যুলেশনের ৯.৭ ইঞ্চি মাপের এল ই ডি ব্যাকলিট ও আইপিএস (ইন প্লেন সুইচিং)প্রযুক্তির আল্ট্রা-ওয়াইড (১৭৮ ডিগ্রী ভিউইং এ্যাঙ্গেল) মাল্টিটাচ ডিসপ্লে স্ক্রিন, এটি বাজারে প্রচলিত যে কোন নেটবুক ল্যাপটপের চেয়ে হালকা পাতলা।
নতুন নতুন প্রযুক্তির উদ্ভাবনে এপলের জুড়ি মেলা ভার।সেই কম্পিউটিং প্রজন্মের শুরু থেকেই একের পর এক তাকলাগানো পণ্য দিয়ে কম্পিউটার বোদ্ধাদের প্রসংশা কুড়িয়ে আসছে এপল।ম্যাক পিসি,ম্যাক অপারেটিং সিস্টেম থেকে শুরু করে হালের আইপড কিংবা আইফোন,সবসময়ই এপল পণ্যের আকর্ষণটা একটু অন্যরকম।দাম হয়তো কিছুটা বেশি কিন্তু গুণে-মাণে এপলের ধারেকাছে কেউ নেই।

সেই এপলই এবার ঘোষণা দিল আইপ্যাড নামের ট্যাবলেট পিসির,যার পুরোটাই টাচ ইন্টারফেস বিশিষ্ট।সেই ২০০১ সালে মাইক্রোসফট প্রথম পেন-এনাবেল টাচ স্ক্রীণ ট্যাবলেট পিসির ঘোষণা দিলেও তা তেমন বাজার পাইনি।এরপর আই ফোন বাজারে আসার পর থেকেই গুজব চলছিল যে এপল বড় আকৃতির টাচ স্ক্রীণ বিশিষ্ট ট্যাবলেট পিসি বা নেটবুক বাজারে আনছে যার নাম হতে পারে আই স্লেট।অবশেষে গত ২৭ জানুয়ারী স্টিভ জবস আনুষ্ঠানিকভাবে এর ঘোষণা দেন।


এপলের পণ্য মানেই নতুন কিছু,নতুন প্রযুক্তি,নতুন চমক।আইপ্যাডও তার ব্যতিক্রম নয়। আসুন আগে এক নজরে দেখে নিই এর প্রধান ফিচারসমূহ-
১. ওয়েব ব্রাউজিং- বিশাল মাল্টিটাচ স্ক্রীণে ইন্টারনেট ব্রাউজিং আপনার এতো বছরের ব্রাউজিং-এর পরিচিত অভিজ্ঞতাকে অনেকটাই বদলে দেবে।শুধুমাত্র হাতের স্পর্শেই এখন থেকে সব করতে পারবেন আপনি।ল্যান্ডস্কেপ কিংবা পোট্রেট যেভাবেই আইপ্যাডকে রাখুন এটি নিজের থেকেই স্ক্রীণকে সেভাবে ওয়েবসাইটের পেজের আকার বুঝে পরিবর্তন করে দিতে সক্ষম।

২.ই-মেইল- জনপ্রিয় সব ই-মেইল সার্ভিস প্রোভাইডরের সেবাই আপনি পাবেন আইপ্যাডে।মেইল লিখার জন্য আছে অনস্ক্রীণ ফুল কীবোর্ড সুবিধা।আর আইপ্যাডের ইন্টিলিজেন্ট ভার্চুয়াল কীবোর্ডকে প্রায় ট্রেডিশনাল কীবোর্ডের রূপ দেওয়া হয়েছে।সুতরাং মেইল লিখতে আপনাকে কোন বেগ পেতে হবে না।

৩. ফটো ভিউয়ার

৪. ভিডিও প্লেয়ার- হাই ডেফিনেশন ভিডিও প্লে ব্যাক সুবিধা আছে এতে।
৫. ইউটিউব- ইউটিউব ভিডিও চালানোর জন্য বিশেষ সুবিধা দেয়া হয়েছে আইপ্যাডে।

৬. আইবুক- এটিকে চাইলে খুব সহজেই আপনি ই-বুক রীডার হিসেবে ব্যবহার করতে পারবেন।বিল্ট-ইন এপল বুক স্টোর থেকে বই সরাসরি কেনার অপশনও আছে এতে।

৭. আইপড- এ সম্পর্কে আর কিছু না বলি!!

৮. আইটিউন
৯. ক্যালেন্ডার

১০. কন্টাক্ট অর্গানাইজার

১১. ম্যাপ সার্ভিস

১১. নোটস

১২. স্পট লাইট সার্চ

১৩. এপ্লিকেশন স্টোর- আইপ্যাডে ১২ টি নতুন স্পেশাল এপ্লিকেশান ব্যবহার করা হয়েছে। এছাড়া এ্যাপল নির্মিত এপ্লিকেশান স্টোরের প্রায় ১৪০,০০০ এপ্লিকেশান চালাতে সক্ষম। প্রতিটি এপ্লিকেশান পোট্রেট ও ল্যান্ডস্কেপ দুভাবেই কাজ করে।
এপলের আইফোন, আইপড টাচ, আইটিউনস্ এর জন্য নির্মিত সকল এপ্লিকেশান (১১ মিলিয়ন গান, ৫০,০০০ টিভি সিরিয়াল, ৮,০০০ মুভি, ২,০০০ বিভিন্ন ভিডিও, অসংখ্য আইবুক কনটেন্টস) এতে ব্যবহার করা যাবে। এছাড়া প্রতিটি ৯.৯৯ মার্কিন ডলার মূল্যের পেজেস, কী-নোট, নাম্বারস নামের আইওয়ার্ক আইপ্যাডে ব্যবহার করে ডকুমেন্ট, প্রেজেন্টেশান, এ্যানিমেশান এন্ড ট্রানজিশান, চার্ট সহ স্প্রেড শীট, বিভিন্ন ফাংশান এবং ফর্মুলা তৈরি করা যাবে।

ডিজাইন

ফিচারের পরই চলে আসে আইপ্যাডের মনোমুগ্ধকর ডিজাইনের কথা।ডিজাইনে নতুনত্ব এপলের প্রাচীন ঐতিহ্য।আইপ্যাডও তার ব্যতিক্রম নয়।আগে এর ডিজাইনের মূল ফিচারসমূহ-এর দিকে একনজরে চোখ বুলিয়ে নেয়া যাক-
>> ডিসপ্লে- সন্দেহ নেই ৯.৭ ইঞ্চির হাই রেজুলেশন মাল্টিটাচবিশিষ্ট এলইডি-ব্যাকলিট আইপিএস ডিসপ্লেটিই আইপ্যাডের প্রাণ।এর অসাধারণ কালার রেজুলেশন একে করেছে হাই ডেফিনেশন মুভি কিংবা ওয়েব ব্রাউজিং-এর জন্য আদর্শ।রয়েছে মোশন সেন্সর টেকনোলজি।ইউজার আইপ্যাডকে যেদিকেই ঘোরাক না কেন এটির ডিসপ্লে স্বয়ংক্রিয় ভাবে ইউজারের দিকে ঘুরে যাবে। এর ভিউয়িং এঙ্গেল হচ্ছে ১৭৮ ডিগ্রী।
>> মাল্টিটাচ- আইফোন দিয়ে মাল্টিটাচ টেকনোলজির জগতে আলোড়ন ফেলেছিল এপল।এবার তাই পূর্ণতা পেতে যাচ্ছে আইপ্যাডের বিশাল স্ক্রীণের মাধ্যমে।এখন থেকে আপনি খুব স্বাচ্ছন্দের সাথেই একই মুহুর্তে একাধিক স্পর্শের মাধ্যমে যেকোন কাজ আগের চেয়ে দ্রুতগতিতে করতে সক্ষম হবেন।

>> স্লিম এন্ড লাইট- এপল পণ্যের একটি বৈশিষ্টই এটি।পাতলা এবং হালকা।চন্তা ক্রএ দেখুন এই অসম্ভব শক্তিশালী ন্ত্রটি আপনার মোবাইলের চেয়েও পাতলা,মাত্র আধা ইঞ্ছি!আর ওজন?দেড় পাউন্ড মাত্র।আর আকারে আমরা সচরাচর যেসব ম্যাগাজিন পত্রিকা দেখে থাকি তার চেয়ে একটু ছোট আকৃতির এই আইপ্যাড।
>> দীর্ঘ ব্যাটারীলাইফ- ১০ ঘণ্টার ব্যাটারি লাইফ এবং ৩০ দিনের স্টান্ডবাই।আর কি বলব?যেখানে আমাদের মোবাইলই এই লেভেলে যায়নি আজো সেখানে একটি ট্যাবলেট পিসিতে এতো মহাশক্তিশালী ব্যাটারী?এপলের ইঞ্জিনিয়াররা খুব বেশি স্পেশাল একটা ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা পেতেই পারেন আমাদের কাছ থেকে। অ্যাডভান্স কেমিস্ট্রি এবং এডাপ্টিং চার্জিং টেকনোলজি টানা ৫ বছর কিছুমাত্র না কমিয়ে ব্যাটারিকে ১০০০ চার্জ সাইকেল দিতে সক্ষম।


টেকনিক্যাল স্পেসিফিকেশন
এই যে এতো এতো ফিচার আর মনমাতানো ডিজাইন,এর সবকিছুর পেছনেই কিন্তু রয়েছে আইপ্যাডের নেক্সট জেনারেশন হার্ডওয়ার স্পেসিফিকেশন।বিস্তারিত বলার আগে একনজরে আগে দেখে নিই এর টেকনিক্যাল স্পেসিফিকেশন-
*১ গিগাহার্জ এপল ১ফোর প্রসেসর
*১৬-৬৪ গিগাবাইট ইন্টারনাল ফ্লাশ মেমোরি
*৯.৭’’ আইপিএস ডিসপ্লে
* ফুল ক্যাপাসিটিভ মাল্টিটাচ ডিসপ্লে
* ১০ ঘন্টা ব্যাটারী লাইফ(১ মাস স্ট্যান্ডবাই টাইম)
*বিল্ট ইন এক্সেলারোমিটার সেন্সর এবং ডিজিটাল কম্পাস
*স্পীকার,মাইক্রোফোন এবং ৩০ পিন কানেক্টর
* ব্লুটুথ ২.১
* ওয়াই-ফাই ৮০২.১১এন
* আধা ইঞ্চি পুরুত্ব এবং দেড় পাউন্ড

প্রথমেই চলে আসবে প্রসেসরের কথা।আইপ্যাডের প্রাণভোমরা হচ্ছে এপলের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি ১ গিগাহার্জ গতিসম্পন্ন এফোর প্রসেসর।এটি একইসাথে যেমন গতিসম্পন্ন তেমনি বিদ্যুত সাশ্রয়ী।নতুবা ১০ ঘন্টা ব্যাটারীলাইফ অসম্ভব ছিল।গেমিং থেকে শুরু করে হাই ডেফিনেশন ভিডিও প্রসেসিং-সবখানেই দূরন্ত গতি পাবেন আপনি।

ডিসপ্লে সম্পর্কে আগেই বলেছি এবারে বলব এর ওয়ারলেস কানেক্টিভিটির কথা।এতে থাকছে ৮০২.১১এন ওয়াই-ফাই কানেকশন যা কিনা ৩০০ এমবিপিএস গতিতে ইন্টারনেটে ডাটা আদা-প্রদানে সক্ষম।এর ব্লুটুথ ২.১ আর ইডিআর এর মাধ্যমে আপনি ওয়ারলেস হেডফোন কিংবা কিবোর্ড/মাউস লাগিয়ে স্বাচ্ছন্দের সাথেই ব্যবহার করতে পারবেন।আর এর থ্রিজি নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ৭.২ এমবিপিএস গতিতে ডাটা ট্রান্সফার করা সম্ভব।

আইপ্যাডকে ম্যাক, পিসি বা ডিজিটাল ক্যামেরার সাথে সংযুক্ত করা যাবে।এই সব কাজ আপনি একত্রে সারতে পারবেন এতে থাকা ৩০ পিন মাল্টি-কানেক্টরের মাধ্যমে।


আইপ্যাডকে পরিবেশ বান্ধব করে তৈরী করা হয়েছে এর কেসিং রিসাইকেলএ্যাবল অ্যালুমিনিয়ামের তৈরী। ব্যাকলিট হিসাবে ব্যবহার করা এলইডি মার্কারী মুক্ত এবং ডিসপ্লে গ্লাস আর্সেনিক মুক্ত। আইপ্যাডে ব্রোমিনেটেড ফ্লেম রিটারড্যান্টস (অগ্নি শিখা ঠেকানো) ব্যবহার করা হয়নি এবং সম্পূর্ণ পিভিসি (পলি ভিনাইল ক্লোরাইড) মুক্ত।

আইপ্যাড বাজারে আসছে দুটি ভার্সন নিয়ে একটি শুধু ওয়াইফাই সহ এবং আরেকটি ওয়াইফাই ও থ্রিজি। এ বছর মার্চের শেষ দিকে এ্যপলের এ ডিভাইসটি পৃথিবীর প্রায় সব দেশে ৪৯৯ থেকে ৮২৯ মার্কিন ডলার মূল্যে একযোগে পাওয়া যাবে।

February 4, 2010

পাইরেসি থাবা থেকে বাঁচছে না ই-বুকও

এবার পাইরেসি হচ্ছে ডিজিটাল ই-বুকে। গত সেপ্টেম্বরে ডন ব্রাউনের জনপ্রিয় উপন্যাস দ্য লস্ট সিমবল প্রকাশের পর বইটি আমাজন ডট কমে বিক্রি হয়েছে অনেক বেশি। এ সাইট থেকে বই বিক্রির ২৪ ঘণ্টা পরই ফাইল ভাগাভাগির সাইট র‌্যাপিড শেয়ার ও বিটটরেন্টের মাধ্যমে বিনামূল্যে প্রায় এক লাখবার নামানো (ডাউনলোড) হয়েছে বইটি!

এ ধরনের ডিজিটাল পাইরেসির ক্ষেত্রে ব্যবহূত হয়েছে ইলেকট্রনিক বই পড়ার যন্ত্র আমাজনের কিন্ডল, সনি রিডার, বার্নস ও নোবেল নুক। এ অবস্থায় ই-বুক পাইরেসির ব্যাপারটি বেশ বেড়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিশেষজ্ঞরা। অ্যাসোসিয়েশন অব আমেরিকান পাবলিশার্সের (এএপি) তথ্য অনুযায়ী, গত বছর প্রায় ৩ কোটি ৭০ লাখডলারের ই-বুক বিক্রি হয়েছে, যা এর আগের বছরের তুলনায় অনেক বেশি। ই-বুক প্রকাশনী সংস্থার মতে, বিক্রীত ই-বুকের চেয়ে পাইরেসির মাধ্যমে নামিয়ে নেওয়ার হার বেশি। ই-বুকের পাইরেসির কারণে অনেক লেখক নিজের বই ডিজিটাল করার বিপক্ষে।

মাইক্রোসফট ও এইচপি বাজারে ছেড়েছে স্লেট কম্পিউটার

মাইক্রোসফট ও হিউলেট-প্যাকার্ড (এইচপি) সম্প্রতি বিশেষ সুবিধাসহ স্লেট কম্পিউটার বাজারে ছেড়েছে। অপারেটিং সিস্টেম উইন্ডোজ-৭ সমর্থিত স্পর্শকাতর ও বড় পর্দার এই বিশেষ কম্পিউটারে ল্যাপটপ ও স্মার্টফোনের সব ধরনের কাজ করা যাবে। প্রযুক্তির বাজারে নতুন ধরনের এই কম্পিউটার নানা ধরনের সুবিধা নিয়ে আসছে। চএর মাধ্যমে সফটওয়্যার থেকে শুরু করে নিয়মিত ব্যবহৃত বিভিন্ন যন্ত্রের সব সুবিধা পাওয়া যাবে।


নতুনভাবে এর যাত্রা শুরু হলেও এর আগে ২০০২ সালে মাইক্রোসফট অপারেটিং সিস্টেম উইন্ডোজ এক্সপি দিয়ে ট্যাবলেট পিসি বাজারে ছাড়ে। তবে তা বেশি জনপ্রিয়তা পায়নি। সেই অভিজ্ঞতার কথা মাথায় রেখে মাইক্রোসফটের সর্বশেষ অপারেটিং সিস্টেম উইন্ডোজ-৭ ব্যবহারের মাধ্যমে স্লেট পিসি বাজারে ছাড়া হয়েছে। এর আগে অ্যাপল আইস্লেট নামে এ ধরনের কম্পিউটার বাজারে ছাড়ার ঘোষণা দেয়।

ওয়েব ২.০ সুইসাইড মেশিন বন্ধ করেছে ফেসবুক

ইন্টারনেটে সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইট ফেসবুক ওয়েব ২.০ সুইসাইড মেশিন নামের একটি ওয়েবসাইট বন্ধ করে দিচ্ছে। এই ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে ফেসবুক ব্যবহারকারীরা তাদের প্রোফাইল মুছে ফেলতে পারে। এ ছাড়া তারা বন্ধুবান্ধবের নানা তথ্যসহ অন্যান্য তথ্য মুছে ফেলতে পারে। ওয়েব ২.০ সাইটে ঢুকে ফেসবুক ছাড়াও মাইস্পেস, টুইটার ও লিঙ্কেডিনে থাকা বন্ধুদের বিভিন্ন তথ্য মুছে ফেলতে পারে। ফেসবুক কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সুইসাইড সাইটটি ফেসবুক নীতিমালার পরিপন্থী। সাইটটি বন্ধ করে দেওয়া হলেও আরেকটি পদ্ধতি চালু করা হচ্ছে, যার মাধ্যমে ফেসবুক ব্যবহারকারীরা তাদের অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয় বা একেবারে মুছে ফেলতে পারবে। এ পদ্ধতি চালু করেছে সেপপুক ডট কম। ফেসবুক জানায়, তারা এ ব্যাপারে সেপপুকু ডট কম ওয়েবসাইটকে একটি চিঠি পাঠিয়েছে। সেপপুকু ডট কম ফেসবুক ব্যবহারকারীদের ‘ডিসকানেক্ট ইওরসেলফ’ বার্তা পাঠিয়ে তাদের প্রোফাইল মুছে ফেলতে উদ্বুদ্ধ করে।

উচ্চ প্রযুক্তি উদ্ভাবনে মার্কিন সরকারের অসহযোগিতার অভিযোগ!

অদ্ভুত এক অভিযোগই করেছে কনজ্যুমার ইলেকট্রনিকস অ্যাসোসিয়েশন (সিইএ)।যুক্তরাষ্ট্রে দক্ষ কর্মীদের উচ্চ প্রযুক্তি উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে সরকার নাকি সহযোগিতা করছে না! এ ক্ষেত্রে নতুন ধরনের আধুনিক প্রযুক্তি উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে আরো উত্সাহ দেওয়া উচিত বলে মনে করছে প্রতিষ্ঠানটি। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের লাস ভেগাসে অনুষ্ঠিত কনজ্যুমার ইলেকট্রনিক প্রদর্শনীতে সিইএর সভাপতি আনেশ চোপড়া বলেন, উদ্ভাবনের মাধ্যমে নানা প্রযুক্তি বেরিয়ে আসবে, যা অর্থনীতির উন্নয়নের ক্ষেত্রে কাজে লাগবে। গবেষণা সংস্থা যোগবে ইন্টারন্যাশনালের সম্প্রতি জাতীয় পর্যায়ে পরিচালিত এক জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের ৯৬ শতাংশ লোক মনে করে বিশ্ব অর্থনীতিতে উচ্চপর্যায়ে পৌঁছাতে উদ্ভাবনী প্রযুক্তি খুবই জরুরি। কনজ্যুমার ইন্ডাস্ট্রির প্রধান গ্রে শাপিরোর মতে, উদ্ভাবনের কার্যক্রমগুলোতে সরকারের অনেক ধরনের সহযোগিতার কথা থাকলেও তা তেমন পাওয়া যায় না। এ ক্ষেত্রে সিইএ তিনটি বিষয়ের ওপর জোর দেওয়ার কথা বলেছে; যার মধ্যে অন্যান্য দেশ থেকে দক্ষ কর্মী আনা এবং যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানিনীতি পরিবর্তন অন্যতম। যোগবের জরিপে আরও দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের ৬০ শতাংশ মানুষের মতামত অনুযায়ী উদ্ভাবনী প্রযুক্তির ক্ষেত্রে এ ধরনের অসহযোগিতা আগামী প্রজন্মকে এগিয়ে যেতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। এসব উদ্ভাবনীর ক্ষেত্রে বড় ধরনের অসহযোগিতা হচ্ছে উচ্চ কর এবং নিয়ন্ত্রণ সংস্থার নানা ধরনের বিধিনিষেধ। আনেশ চোপড়া বলেন, ‘আমরা বলিনি যে সব ক্ষেত্রে নিয়ম পরিবর্তন করতে, তবে উদ্ভাবনী এবং শিল্পের বিকাশে সরকারের আন্তরিক সহযোগিতা জরুরি।’

যুক্তরাষ্ট্রে মাইক্রোসফট ওয়ার্ড বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল

যুক্তরাষ্ট্রের কিছু কিছু অঞ্চলে মাইক্রোসফটের লেখালেখির জনপ্রিয় সফটওয়্যার এমএস ওয়ার্ড বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখা হয়েছে। এমএস ওয়ার্ডে বিদ্যমান এক্সএমএল (এক্সটেন্সিবল মার্ক-আপ ল্যাঙ্গুয়েজ) প্রযুক্তির স্বত্ব দাবি করে কানাডার টরন্টোভিত্তিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আইফোরআই-এর দায়ের করা মামলায় ওয়ার্ড বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখেছেন যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চ আদালত।

গত বছরের ১২ আগস্ট টেক্সাসের একটি আদালত স্বত্ব ভঙ্গের অভিযোগে মাইক্রোসফটকে গত ১০ অক্টোবর থেকে মাইক্রোসফট ওয়ার্ড বিক্রি বন্ধ এবং ক্ষতিপূরণ হিসেবে আইফোরআইকে ২৯ কোটি ডলার দেওয়ার নির্দেশ দেন। উচ্চ আদালতে মাইক্রোসফটের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই রায় সাময়িকভাবে স্থগিতও করা হয়েছিল। তবে শেষ রক্ষা হয়নি মাইক্রোসফটের। দিন কয়েক আগে দেওয়া এক সিদ্ধান্তে উচ্চ আদালত আগের রায়ই বহাল রাখেন।
এই রায়ের আলোকে এক্সএমএল প্রযুক্তি বাদ দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে গত সোমবার থেকে মাইক্রোসফট অফিসের বিশেষ সংস্করণ ছাড়া হয়েছে। এক্সএমএল প্রযুক্তি নিয়ে আইফোরআইর সঙ্গে এই মামলায় মাইক্রোসফটের ব্যবসায়িক ও প্রযুক্তিগত সুনাম অনেকাংশেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে মাইক্রোসফট উচ্চ আদালতের এই রায়ের বিরুদ্ধেও আপিল করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

রাসায়নিক কম্পিউটার তৈরিতে কাজ শুরু করেছেন বিজ্ঞানীরা

মানুষের মস্তিষ্ক যেভাবে কাজ করে এবং মানব শরীরের নিউরনের মাধ্যমে যেভাবে জৈব সংকেত পরিবাহিত হয় তার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে রাসায়নিক কম্পিউটার তৈরির প্রকল্প হাতে নিয়েছে একটি আন্তর্জাতিক কনসোর্টিয়াম। ইউরোপীয় ইউনিয়নের আর্থিক সহায়তায় আগামী তিন বছর যাবত্ এ প্রকল্পের কাজ চলবে।

রাসায়নিক এই কম্পিউটারের নাম দেওয়া হয়েছে ‘ওয়েট কম্পিউটার’। মানব শরীরে যে ধরনের কোষ ও কোষ প্রাচীর থাকে, কৃত্রিমভাবে তৈরি সে ধরনের কোষ ও কোষ প্রাচীরের সমন্বয়ে তৈরি হবে ওয়েট কম্পিউটার। এই কম্পিউটারের এক কোষ থেকে আরেক কোষে সরাসরি ইলেকট্রনিক সংকেতের পরিবর্তে রাসায়নিক সংকেত পরিবাহিত হবে। সংকেতের গতিপথ এবং প্রকৃতিও নির্ধারিত হবে রাসায়নিক মিথস্ক্রিয়ার ফলে। এই প্রকল্পের উদ্দেশ্য হলো প্রচলিত ইলেকট্রনিক কম্পিউটারের সঙ্গে পাল্লা দেওয়া নয়, বরং যেসব ক্ষেত্রে ইলেকট্রনিক কম্পিউটারের কার্যকারিতার মাত্রা অপেক্ষাকৃত কম যেমন—মানব শরীরের অভ্যন্তর ভাগে জটিল অস্ত্রোপচার ও ওষুধ প্রয়োগ, জৈব ন্যানো রোবট তৈরি, ন্যানো প্রকৌশল ইত্যাদি ক্ষেত্রে রাসায়নিক কম্পিউটার ইলেকট্রনিক কম্পিউটারের যথার্থ সহযোগী হবে। নিবিড় প্রচেষ্টায় কোনো একদিন মানব মস্তিষ্কের মতো বিপুল ক্ষমতা ও সূক্ষ্ম বিশ্লেষণী শক্তিসংবলিত রাসায়নিক কম্পিউটার তৈরি করা গেলে মহাবিশ্বের অনেক অমীমাংসিত রহস্যই উদ্ঘাটন করা সম্ভব হবে বলে প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আশা করছেন।

ইন্টারনেট এক্সপ্লোরারের ত্রুটির সুযোগে চীনে গুগলের উপর সাইবার হামলা,কার্যক্রম বন্ধের হুমকি দিল গুগল

মাইক্রোসফট করপোরেশনের ইন্টারনেট এক্সপ্লোরারের নিরাপত্তা ত্রুটির সুযোগ নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে চীনে গুগলের ওপর সাইবার হামলা হয়েছে। আর এর পরিপ্রেক্ষিতেই চীনে পরিচালিত নিজেদের কার্যক্রম বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে ইন্টারনেটে তথ্য খোঁজার জনপ্রিয় ওয়েবসাইট (সার্চ ইঞ্জিন) গুগল।

সম্প্রতি জানানো হয়, চীনের মানবাধিকার কার্যক্রমের ই-মেইল ঠিকানা ব্যবহার করে সাইবার আক্রমণ চালানো হতে পারে। ২০০৬ সালে চীনের জন্য গুগল চালু করে গুগল ডট সিএন ঠিকানার ওয়েবসাইট। প্রতিষ্ঠানটির ঘোষণা অনুযায়ী, সার্চ ইঞ্জিন গুগল ডট সিএন বন্ধের পাশাপাশি চীনে গুগলের সব ধরনের কার্যক্রমও বন্ধ করে দেওয়া হবে। শুরু থেকেই চীন সরকার সার্চ ইঞ্জিনে বিভিন্ন বিষয়ে তথ্য খোঁজার ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে।
এদিকে আইই-এর ত্রুটির কথা মাইক্রোসফটের পক্ষ থেকে এ কথা স্বীকার করে নেওয়া হয়েছে। মাইক্রোসফটের নিরাপত্তাবিষয়ক পরিচালক মাইক রিভে বলেন, ‘আমরা পরীক্ষা করে দেখেছি যে সামপ্রতিক সময়ে গুগল ও অন্যান্য করপোরেট নেটওয়ার্কের ওপর সাইবার আক্রমণের অন্যতম কারণ হচ্ছে ইন্টারনেট এক্সপ্লোরারের নিরাপত্তা ত্রুটি।’ এই প্রেক্ষাপটে জার্মান সরকার সেদেশের নাগরিকদের ইন্টারনেট এক্সপ্লোরার ব্যবহারের বিষয়ে সতর্ক করে দিয়েছে। তবে মাইক্রোসফট করপোরেশনের পক্ষ থেকে জার্মান সরকারের এ ধরনের সতর্কতার সমালোচনা করা হয়েছে। ইন্টারনেট এক্সপ্লোরারের নিরাপত্তা ত্রুটিগুলো সারিয়ে তোলার চেষ্টা চলছে বলেও মাইক্রোসফটের পক্ষ থেকে জানানো হয়।

January 22, 2010

ফটোফিচারঃ বিশ্বের সেরা দশ রোলার কোষ্টার

১৮৮৫ সালে আমেরিকায় প্রথম রোলার কোষ্টার নির্মানের পর থেকেই থীম পার্কের যেকোন রাইডের মধ্যে এটি যুগে যুগে মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতেই থেকেছে।আমাদের দেশে রোলার কোষ্টার বলতে এখনো এক আশুলিয়াস্থ ফ্যান্টাসী কিংডমের রাইডটাকেই আমরা বুঝি।বিদেশে কিন্তু অনেক আগে থেকেই রোলার কোষ্টার নির্মাণ প্রযুক্তি অনেক অগ্রসর।দেখ-বিদেশের বিভিন্ন পার্কের হাইটেক রোলার কোষ্টার পর্যটকদের আগ্রহের আরেক খোরাক।তাক লাগানো এমন ১০টি সেরা রোলার কোষ্টার নিয়েই এই ফটোফিচার।
১.  কিংডা কা 
পার্কঃ সিক্স ফ্ল্যাগ গ্রেট এডভেঞ্চার
অবস্থানঃ জ্যাকসন,নিউ জার্সি,আমেরিকা
নির্মাণ সালঃ ২০০৫
ট্র্যাকের দৈর্ঘ্যঃ ৯৫০ মিটার
সর্বোচ্চ উচ্চতাঃ ৪৫৬ ফুট/১৩৯ মিটার
সর্বোচ্চ গতিবেগঃ ২০৪ কিলোমিটার/ঘন্টা

২.  স্টীল ড্রাগন ২০০০
পার্কঃ নাগাশিমা স্পা ল্যান্ড এমিউজমেন্ট পার্ক
অবস্থানঃ নাগাশিমা,জাপান
নির্মাণ সালঃ ২০০০
ট্র্যাকের দৈর্ঘ্যঃ ২৪৭৯ মিটার
সর্বোচ্চ উচ্চতাঃ ৩১৮ ফুট/৯৭ মিটার
সর্বোচ্চ গতিবেগঃ ১৫৩ কিলোমিটার/ঘন্টা

৩. মিলেনিয়াম ফোর্স 
পার্কঃ সিডার পয়েন্ট এমিউজমেন্ট পার্ক
অবস্থানঃ স্যান্ডাস্কি,ওহাইয়ো
নির্মাণ সালঃ ২০০০
ট্র্যাকের দৈর্ঘ্যঃ ২০১০ মিটার
সর্বোচ্চ উচ্চতাঃ ৩১০ ফুট/৯৪ মিটার
সর্বোচ্চ গতিবেগঃ ১৫০ কিলোমিটার/ঘন্টা

৪. টপ থ্রিল ড্রাগস্টার
পার্কঃ সিডার পয়েন্ট এমিউজমেন্ট পার্ক
অবস্থানঃ স্যান্ডাস্কি,ওহাইয়ো
নির্মাণ সালঃ ২০০৩
ট্র্যাকের দৈর্ঘ্যঃ ৮৫০ মিটার
সর্বোচ্চ উচ্চতাঃ ৪২০ ফুট/১৩০ মিটার
সর্বোচ্চ গতিবেগঃ ১৯০ কিলোমিটার/ঘন্টা

৫. ডডোপা 

পার্কঃ ফুজি কিউ হাইল্যান্ড
অবস্থানঃ ইয়ামানশি,জাপান
নির্মাণ সালঃ ২০০১
ট্র্যাকের দৈর্ঘ্যঃ ১১৮৯ মিটার
সর্বোচ্চ উচ্চতাঃ ১৭০ ফুট/৫২ মিটার
সর্বোচ্চ গতিবেগঃ ১৭২ কিলোমিটার/ঘন্টা

৬. থান্ডার ডলফিন

পার্কঃ টোকিও ডোম চিটি এট্রাকশন
অবস্থানঃ টোকিও,জাপান
নির্মাণ সালঃ ২০০৩
ট্র্যাকের দৈর্ঘ্যঃ ১১০০ মিটার
সর্বোচ্চ উচ্চতাঃ ২৬২ ফুট/৮০ মিটার
সর্বোচ্চ গতিবেগঃ ১৩০ কিলোমিটার/ঘন্টা

৭. গোলিয়াথ
পার্কঃ সিক্স ফ্লাগ মাজিক মাউন্টেন
অবস্থানঃ ভ্যালেন্সিয়া,ক্যালিফোর্ণিয়া
নির্মাণ সালঃ ২০০০
ট্র্যাকের দৈর্ঘ্যঃ ১৪০০ মিটার
সর্বোচ্চ উচ্চতাঃ ২৩৫ ফুট/৭২ মিটার
সর্বোচ্চ গতিবেগঃ ১৩৭ কিলোমিটার/ঘন্টা

৮. ড্রাগন খান 
পার্কঃ পোর্টএডভেঞ্চার
অবস্থানঃ ক্যাটালানিয়া,স্পেন
নির্মাণ সালঃ ১৯৯৫
ট্র্যাকের দৈর্ঘ্যঃ ১২৬৯ মিটার
সর্বোচ্চ উচ্চতাঃ ১৪৮ ফুট/৪৫ মিটার
সর্বোচ্চ গতিবেগঃ ১০৮ কিলোমিটার/ঘন্টা

৯. টাইটান 
পার্কঃ সিক্স ফ্লাগস ওভের টেক্সাস
অবস্থানঃ অরিংটন,টেক্সাস
নির্মাণ সালঃ ২০০১
ট্র্যাকের দৈর্ঘ্যঃ ১৬১৯ মিটার
সর্বোচ্চ উচ্চতাঃ ২৪৫ ফুট/৭৫ মিটার
সর্বোচ্চ গতিবেগঃ ১৩৭ কিলোমিটার/ঘন্টা

১০. নেমেসিস
পার্কঃ এলটন্ টাওয়ার
অবস্থানঃ ইংল্যান্ড
নির্মাণ সালঃ ১৯৯৪
ট্র্যাকের দৈর্ঘ্যঃ ৭১৬ মিটার
সর্বোচ্চ উচ্চতাঃ ৪৩ ফুট/১৩ মিটার
সর্বোচ্চ গতিবেগঃ ৮০ কিলোমিটার/ঘন্টা
http://techtoday4u.blogspot.com/